
বরগুনায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক মো. আসাদুল হক সবুজের ডোপ টেস্ট করিয়েছে পুলিশ। তবে মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নেই। ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে তার শরীরে মাদকের কোন অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে ডোপ টেস্ট করানো হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মো. আসাদুল হক সবুজ দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি। তিনি জেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ভূতমারা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে থেকে আসাদুল হককে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে হাজির করার আগে সদর থানার পুলিশ আসাদুল হককে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করায়। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসাদুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো অভিযোগ উল্লেখ নেই। এ অবস্থায় ডোপ টেস্ট করানোর কারণ কী তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আসাদুলের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, মামলায় মাদক সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ না থাকার পরও ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়টি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। এদিকে আসাদুলকে আদালতে নেওয়ার সময় দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে অপমানজনক ও অমানবিক বলে দাবি করেছেন। আসাদুলের বাবা জিয়াউল হক আবু বলেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার ছেলেকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। কোনো মাদকের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন ডোপ টেস্ট করা হলো তা আমরা বুঝতে পারছি না। পরীক্ষার ফলও নেগেটিভ এসেছে। এতে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। তাকে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়াও অপমানজনক।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে তার বিচারিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলবে। তবে গ্রেপ্তারের পর ডোপ টেস্ট করানোর কারণ এবং আদালতে নেওয়ার সময় হাতকড়া ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা থাকা দরকার। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তসহ প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। মামলার এজাহার সূত্র জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বপন কুমার ঘোষ নামে এক ব্যক্তি আসাদুলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরগুনা সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি থানায় এজাহারভুক্ত হয়। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টার দিকে আসামিরা তার মালিকানাধীন জমিতে প্লট তৈরির কাজে বাধা দেন এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ওই দিন রাতেই স্কেভেটর দিয়ে প্লট খনন করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
তবে মামলার আরেক আসামি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় বিপ্লব বিশ্বাস গংদের দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য আয়োজিত সালিশে তিনি একজন সালিশ ছিলেন। অথচ তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। ডোপ টেস্টের বিষয় বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তার ডোপ টেস্ট হলেও হাতকড়া পরানোর বিষয়টি জানা নেই।
















