তামাকমুক্ত ঢাকা গড়তে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: ডিসি ফরিদা

তামাক ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তিনি বলেন, শুধু আইন থাকলেই তামাকমুক্ত নগর নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি, জনসচেতনতা এবং প্রমাণভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে হবে।

সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আর্ক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Tobacco-Smoke-Free Cities (TFC)’ শীর্ষক ৪৮ মাসের প্রকল্পের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফরিদা খানম বলেন, বিদ্যমান আইন থাকা সত্ত্বেও নগরীর বিভিন্ন গণপরিসরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, নারী ও প্রবীণরা। ধূমপান না করেও অন্যের ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই গণপরিসরে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইনের প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চার ধাপে পরিচালিত অ্যাকশন-রিসার্চ প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় টাস্কফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন তামাকমুক্ত নগর গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকা জেলা প্রশাসন সর্বদা আন্তরিক ও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ধূমপানমুক্ত আইন বাস্তবায়নে গণপরিসরে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবতা ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং গবেষণা দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিটি কেস-স্টাডি ও প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণভিত্তিক তথ্য ও সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি নগরকে টেকসইভাবে পরিবর্তন করতে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রকল্পের গবেষণালব্ধ ফলাফল ভবিষ্যতে তামাক নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি করবে।’ অনুষ্ঠানে আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, দেশি-বিদেশি গবেষক ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, সিটি কর্পোরেশন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান থেকে তামাকের ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণপরিসরে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্পর্কিত খবর